মাত্র ৩০ বছর বয়সেই বিলিয়নিয়ার। সম্পদের আনুমানিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। অথচ বিলাসী জীবনযাপনে সময় না দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি। বলছি ব্রাজিলীয় উদ্যোক্তা লুয়ানা লোপেস লারার কথা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কালশির (Kalshi) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও)।

২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ফোরচুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কালশির ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে তাঁর সম্পদের মূল্যও বেড়েছে। তবে এই সম্পদ মূলত প্রতিষ্ঠানে তাঁর মালিকানার অংশের আনুমানিক মূল্য; পুরো অর্থ নগদে তাঁর হাতে রয়েছে, এমন নয়।

নৃত্যশিল্পী থেকে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা

ব্যবসায় সাফল্য পাওয়ার আগে লুয়ানা লোপেস লারা পেশাদার ব্যালে নৃত্যশিল্পী হওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ব্রাজিলে তাঁর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই নাচের কঠোর অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন তিনি।

পরে প্রযুক্তি ও ব্যবসার জগতে পা রাখেন লারা। সহপ্রতিষ্ঠাতা তারেক মনসুরের সঙ্গে মিলে ২০১৯ সালের দিকে কালশি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) অনুমোদন পায়।

কী করে কালশি?

কালশি একটি ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ প্ল্যাটফর্ম। এখানে ব্যবহারকারীরা নির্বাচন, খেলাধুলা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন ঘটনার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চুক্তিতে লেনদেন করতে পারেন। ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটবে কি না, সে বিষয়ে ব্যবহারকারীদের ধারণা ও বাজারের তথ্য এই প্ল্যাটফর্মে প্রতিফলিত হয়।

প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের সঙ্গে এর মূল্যায়নও বেড়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে কালশির মূল্যায়ন ২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর খবর প্রকাশিত হয়। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের সম্পদের আনুমানিক হিসাব আরও বেড়ে যায়।

বিলিয়নিয়ার হয়েও কেন এত কাজ?

ফোরচুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লারা বলেছেন, বিলিয়নিয়ার হওয়ার পরও তাঁর দৈনন্দিন জীবন খুব বেশি বদলায়নি। কালশিকে আরও বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই তাঁর প্রধান মনোযোগ। এ কারণে তিনি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় অফিসে কাটান এবং খুব কম দিনই পুরোপুরি কাজ থেকে বিরতি নেন।

তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার পরও তাঁর জীবনযাপনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি; কখনো ভালো খাবারের জন্য কিছুটা বেশি খরচ করাই মূলত পার্থক্য।

সম্পদই কি সাফল্যের শেষ কথা?

লারা ও কালশির সাফল্য প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জগতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কোম্পানির মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বাজার পরিস্থিতি বা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের কারণে এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

মাত্র ৩০ বছর বয়সে এমন অবস্থানে পৌঁছানো যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি তাঁর দীর্ঘ কর্মঘণ্টাও নজর কেড়েছে। লারার গল্পে উঠে এসেছে নৃত্যশিল্পী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথ, কঠোর পরিশ্রম এবং একটি ব্যবসাকে বড় করে তোলার প্রতি তাঁর মনোযোগ।

সংগৃহীত: ফোরচুন ও মানিকন্ট্রোলসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।

 

Facebook Comments Box