সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাশাপাশি সমুদ্রপথে হামলার জন্য বিশেষ ধরনের চালকবিহীন অস্ত্র, বিশেষ করে ‘লোইটারিং টর্পেডো’ প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য সামনে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-এর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র গবেষকেরা হুথিদের অস্ত্রভান্ডারে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাব্য উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন। এর মধ্যে এমন নেভিগেশন মডিউল ও প্রপেলার রয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি অপেক্ষা করে আঘাত হানতে সক্ষম টর্পেডো তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে অস্ত্রটির কার্যকারিতা ও বাস্তব ব্যবহারের সক্ষমতা সম্পর্কে সব তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনেও বাড়ছে সক্ষমতা
হুথিদের অস্ত্রভান্ডারে বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে হুথিদের অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বড় আকারের হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত।
ইরানের সহায়তার অভিযোগ
হুথিদের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সামরিক বিশ্লেষণে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান ও হুথিরা এ ধরনের সহায়তার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হুথিদের নতুন অস্ত্র নিয়ে গবেষণার তথ্যও সেই প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে পরীক্ষাধীন প্রযুক্তি আর বাস্তব যুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত অস্ত্র এক বিষয় নয়—এ পার্থক্য মাথায় রাখা জরুরি।
সংগৃহীত: দ্য ন্যাশনাল, আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।



মন্তব্য করুন