যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২৪৭ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও প্রতারণার সন্দেহে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) পরিচালিত তদন্তের অংশ হিসেবে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের রিজেন্টস পার্কের কাছে অবস্থিত ফ্ল্যাটটির মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের বিচারপতি কারেন স্টেইন সম্পত্তিটি অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কেনা হয়ে থাকতে পারে—এমন অভিযোগের পক্ষে যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে বলে উল্লেখ করে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। 

অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের নথি অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান চৌধুরী ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি কেনেন। তখন এর ক্রয়মূল্য ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড। পরে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ রাখা হয়।

এনসিএর অভিযোগ, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে জটিল মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পত্তির মালিক কোম্পানির শেয়ার মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পত্তিটির ওপর আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। 

আদালতে এনসিএ জানায়, ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস ব্যাংকের ঋণ পুনঃঅর্থায়নের চেষ্টার সঙ্গেও কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনিসুজ্জামান

আদালতে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার আবেদনের বিরোধিতা করেননি। তবে আনিসুজ্জামান কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভবিষ্যতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে দেওয়ানি মামলা হলে তিনি তা মোকাবিলা করবেন বলেও জানিয়েছেন। 

বৃহত্তর তদন্তের অংশ

এ ঘটনা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট বিদেশি সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের বৃহত্তর তদন্তের অংশ। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদের ওপরও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে।

সংগৃহীত: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।

Facebook Comments Box