বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, তা আবারও প্রমাণ করলেন ৯৯ বছর বয়সি প্রবীণ নারী হেলগা ডাফি। অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে উড়ন্ত বিমানের ডানায় হেঁটে বা দাঁড়িয়ে থাকার বিশেষ অ্যাডভেঞ্চার ‘উইং ওয়াকিং’ সম্পন্ন করেছেন তিনি।

এর মাধ্যমে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ‘উইং ওয়াকার’ হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম তুলে ধরেছেন ইংল্যান্ডের এই বাসিন্দা। এর আগে গিনেস নিউজে ৯৭ বছর বয়সি বেটি ব্রমজকে বিমানে দাঁড়িয়ে উড়ার দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন হেলগা এবং নিজেই সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

যুক্তরাজ্যের গ্লসস্টারশায়ারের রেনকম্ব এয়ারফিল্ডে এই অবিশ্বাস্য কীর্তিটি সম্পন্ন হয়। ছোট একটি বাইপ্লেন বিমানের ওপরের ডানায় শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় আকাশে ওড়ার অনুভূতিকে ‘অদ্ভুত কিন্তু রোমাঞ্চকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন হেলগা। তিনি জানান, একটুও ভয় পাননি, বরং পুরো বিষয়টি নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন।

সাত ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় হেলগা মনে করেন, ওপার থেকে তার প্রয়াত বাবা আজ প্রথম সন্তানের এমন কীর্তিতে অত্যন্ত গর্ববোধ করছেন। সফলভাবে ফ্লাইটটি অবতরণের পর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তারা তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড গড়ার সনদ তুলে দেন।

সাহসী এই রেকর্ড গড়ার পেছনে একটি মহৎ সামাজিক উদ্দেশ্যও ছিল হেলগার। এ আয়োজনের মাধ্যমে তিনি ‘উইল্টশায়ার অ্যান্ড বাথ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ চ্যারিটির জন্য ১,৩০০ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন। তার এমন সাহসিকতা দেখে স্বজনরা ভীষণ আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। হেলগার দুই ভাগ্নি জ্যাকি রোজ ও জুলি প্রিস জানান, ৯৯ বছর বয়সেও তাদের খালা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে মনের দিক থেকে তিনি এখনও আগের মতোই আত্মনির্ভরশীল ও অদম্য। তাদের মায়ের শেষ যাত্রায় এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা লেগেছিল বলে হেলগার এই উদ্যোগ তাদের পরিবারের জন্য আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

এদিকে হেলগার কাছে রেকর্ড হারানো ৯৭ বছর বয়সি পূর্ববর্তী রেকর্ডধারী বেটি ব্রমজ মজার ছলে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ১০০ বছর বয়সে তিনি আবার বিমানে উঠবেন এবং হেলগার এই রেকর্ডটি ভেঙে নিজের মুকুট পুনরুদ্ধার করবেন। জীবনের এই শেষ অপরাহ্ণে এসেও বয়সের বাধা ডিঙিয়ে আকাশ ছোঁয়ার এই গল্প এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box