চট্টগ্রাম: মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রামের কয়েকজন নারী মাদক কারবারির বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, মাদক চক্রে নারীদের একটি অংশকে খুচরা বিক্রেতা ও বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ৪০ জন নারী। তাঁদের কেউ ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি, আবার কেউ মাদক পরিবহন ও অর্থ লেনদেনে জড়িত।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই নগরের ফিশারিঘাট ভেড়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুমা পারভীন শিমুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বসতঘর থেকে ৪০টি ইয়াবা, ৫০ পুঁটলি গাঁজা ও মাদক বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও মানব পাচারসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক কারবারে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

নগরের আরেক নারী মাদক কারবারি আকলিমার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ২০ বার কারাগারে গেলেও জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরের এনায়েত বাজার ও গোয়ালপাড়া এলাকায় আকলিমা গাঁজা বিক্রি করেন। পুলিশ অভিযান চালালে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে আবারও একই কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে গত ১৬ জুলাই নগরের ইপিজেড থানার হাসপাতাল গেইট এলাকা থেকে শিরিন নামে এক নারীকে সাত কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, এলাকায় তিনি কাপড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। কাপড় ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের কাছে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র বলছে, মাদক কারবারের চক্রে নারীদের মূলত খুচরা বিক্রি এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে তাঁদের কেউ কেউ বড় মাদক কারবারিদের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে পুনরায় একই কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। একাধিক মামলা থাকার পরও জামিনে মুক্তির পর তাঁদের গতিবিধি নিয়মিত নজরদারিতে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে কেউ কেউ পুরোনো নেটওয়ার্কে ফিরে যান।

অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, মাদক কারবারে নারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। বড় কারবারিরা নারীদের তুলনামূলক কম সন্দেহের সুযোগ নিয়ে বাহক ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবে ব্যবহার করেন। একই ব্যক্তি বারবার গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে মাদক কারবারে ফিরলে শুধু তাঁদের গ্রেপ্তার না করে মূল হোতাদের শনাক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের নজরদারি, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে মাদক চক্রে নারীদের পুনঃসম্পৃক্ততা কমানো সম্ভব।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অনেক সময় নারীদের মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নগরীতে অনেক নারী মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। অনেক মাদক কারবারিকে আমরা গ্রেপ্তার করি। তাঁরা আবার জামিনে এসে একই কাজে জড়িয়ে পড়েন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবাই সহযোগিতা করলে মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সফল হবো।

  • এমআই/
  • এমআর/
  • টিসি
Facebook Comments Box