আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তি গভীর মানসিক সংকট ও তীব্র কষ্টের মধ্য দিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তার প্রয়োজন চিকিৎসা, সহায়তা, নিরাপত্তা ও সহমর্মিতা। একটু সহমর্মিতা নিয়ে কথা বলা, সঠিক সময়ে সহায়তার হাত বাড়ানো এবং পেশাদার সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে একজন মানুষকে এই মানসিক সংকট থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।
যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ), টিএসসি স্টুডেন্ট গাইডেন্স কার্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ৭৬ হাজার ৩৬১ জন আত্মহত্যা করেছে। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ ১৩ হাজার ৪৯১টি আত্মহত্যার তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
এদিকে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে জানানো হয়, এই সময়ে ১ হাজার ২২৬ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। আর ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরবর্তী কয়েক দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহজাবিন হক, গ্লোবাল সেন্টার অব এক্সিলেন্সের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহমুদা রহমান খান, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান প্রমুখ।
সংগৃহীত: সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও আয়োজকদের দেওয়া তথ্য থেকে সংগৃহীত।



মন্তব্য করুন