মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সরাসরি কথা বলেছেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) টেলিফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সু চি গৃহবন্দি রয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ৮১ বছর বয়সী মায়ের শারীরিক অবস্থা ও সুস্থতা সম্পর্কে অনিয়মিতভাবে অন্যদের মাধ্যমে খবর পেতেন কিম অ্যারিস। মায়ের কণ্ঠস্বর শোনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আবার তার কণ্ঠস্বর শুনতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার চেয়েও অনেক বেশি।’

মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারলেও এতে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার অবসান হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন কিম অ্যারিস। তিনি বলেন, ‘তাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। একটি কথোপকথন তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া বছরগুলো ফিরিয়ে দিতে পারে না, কিংবা তার কাছ থেকে এখনো কেড়ে নেওয়া অধিকারগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারে না।’

অ্যারিস আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত, সরাসরি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ এবং স্বাধীনভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনে মা ও ছেলের কথা হয়েছে। এ সময় তাদের দুজনের আলাদা ছবিও প্রকাশ করা হয়।

মায়ের পাশাপাশি মিয়ানমারের সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবি জানিয়ে অ্যারিস বলেন, ‘আমার মা এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। স্বাধীনতা কোনো অনুগ্রহ নয়, যা কাউকে দেওয়া হবে, কিংবা দর-কষাকষির মাধ্যমে আদায় করতে হবে।’

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রয়েছেন। ওই সময় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এবং ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে।

অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নেয়। এর ফলে মিয়ানমার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সামরিক বাহিনী-সমর্থিত নির্বাচনের মাধ্যমে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গত এপ্রিলে সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়।

উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সু চিকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

সংগৃহীত: রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।

Facebook Comments Box