সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের এলাকার উন্নয়নে যতটা কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, ততটা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মাহমুদা মিতু বলেন, সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখা। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ আসে, তার মাধ্যমে মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকে। এসব বিবেচনায় তিনি সরাসরি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন বলে জানান।
তবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের এলাকার জন্য প্রত্যাশিত পরিমাণে কাজ করার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হওয়ায় সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁকে বঞ্চিত করেছে, যার ফলে তাঁর এলাকার মানুষও প্রাপ্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
মাহমুদা মিতু আরও বলেন, সরকার থেকে তাঁর এলাকায় খুব সামান্য কাবিখা ও কাবিটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা দুই উপজেলায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ কম হলেও এর কোনো অর্থ অপচয় বা অনিয়ম হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের এলাকার রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এলাকার সবচেয়ে খারাপ রাস্তাগুলো তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে এসব রাস্তার উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রকৃত হকদারদের বরাদ্দ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মাহমুদা মিতু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো বিএনপি কর্মী বা সমর্থক কোনো বরাদ্দের প্রকৃত হকদার হলে তাকেও বঞ্চিত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে পছন্দের মানুষকে বেশি দেওয়া বা কারও প্রাপ্য আটকে রাখার মতো কাজ তিনি করতে চান না।
নিজের এলাকার উন্নয়ন পরিস্থিতি তুলে ধরে মাহমুদা মিতু দাবি করেন, তাঁর এলাকা দেশের সবচেয়ে অনুন্নত ১০টি এলাকার মধ্যে একটি এবং সেখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।
তিনি মনে করেন, এলাকার সব সংসদ সদস্য দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বিতভাবে কাজ করলে উন্নয়নের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। এ জন্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: সংগৃহীত



মন্তব্য করুন