২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি জাপানের প্রত্যন্ত নোতো উপদ্বীপে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ইশিকাওয়া প্রিফেকচারের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুই বছর পর স্থানীয় নেতারা পর্যটকদের আবারও এই অঞ্চলে ভ্রমণের আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে পর্যটনের মাধ্যমে এলাকার পুনর্গঠন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করা যায়।

প্রিফেকচারের দক্ষিণে অবস্থিত কানাজাওয়া শহর টোকিও থেকে বুলেট ট্রেনে সহজেই পৌঁছানো যায়। শহরটির অন্যতম আকর্ষণ Kenrokuen, যা জাপানের বিখ্যাত উদ্যানগুলোর একটি। পাশাপাশি কানাজাওয়ায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সমৃদ্ধ জগৎ।

ভ্রমণকারীরা এখানে সোনার পাত তৈরির কর্মশালা ঘুরে দেখতে পারেন এবং নিজেদের হাতে রেশমে রঙ করার ঐতিহ্যবাহী Kaga Yuzen শিল্পকর্ম তৈরির অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।

তবে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে নোতো উপদ্বীপের উত্তরে ভ্রমণ। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকায় কিছু ‘Farmhouse Inn’ পর্যটকদের স্থানীয় মৌসুমি কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। যেমন—ধান রোপণে অংশ নেওয়া। এসব কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থ স্থানীয় পরিবার এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধাপচাষের ধানক্ষেত Shiroyone Senmaida সংরক্ষণে সহায়তা করছে।

নোতো উপদ্বীপ জাপানজুড়ে সুস্বাদু সামুদ্রিক খাবার, শতাব্দীপ্রাচীন Wajima-nuri বার্ণিশশিল্প এবং পুরস্কারজয়ী সাকে-এর জন্য পরিচিত। এখানকার সাকে তৈরি করেন ঐতিহ্যবাহী Noto Toji, অর্থাৎ দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাকে প্রস্তুতকারকরা।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অনেক স্থানীয় সাকে ব্রুয়ারি আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে ‘Don’t Stop the Noto Sake’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিক্রয় থেকে পাওয়া অর্থ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রুয়ারিগুলোর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবার পরিচালিত আবাসনে থাকা, পুনরায় চালু হওয়া স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া কিংবা স্থানীয় কারুশিল্পীদের কাছ থেকে ঐতিহ্যবাহী পণ্য কেনা—এসবের মাধ্যমে পর্যটকরা ইশিকাওয়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে অবদান রাখতে পারেন।

ভূমিকম্পের পর ঘরবাড়ি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনর্গঠনে কাজ করে যাওয়া স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে পর্যটনের মাধ্যমে। একই সঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যগুলোকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে সহায়তা করতে পারে পর্যটকদের এই অংশগ্রহণ।

সংগৃহীত: BBC Travel — Mizuki Uchiyama.

Facebook Comments Box