দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দলিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বার্ষিক দলিত নারী সম্মেলনী-২০২৬’। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী সম্মেলনে দলিত নারীর অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, বৈষম্য দূরীকরণ ও ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিবন্ধন ও চা-পর্ব শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও অতিথিদের আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের মূল বক্তব্যে ‘দলিত নারীর বিপন্নতা ও অগ্রযাত্রার করণীয়’ বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে বক্তব্য দেন দলিত নারী ফোরামের প্রকল্প কর্মকর্তা তামান্না সিং বাড়াইক। এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন দলিত নারী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মণি রানী।

বক্তারা বলেন, দলিত নারী ও কিশোরীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন। তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহমুদুল্লাহ, ডরিনউইজিএর নির্বাহী পরিচালক আশারাফুন নাহার মিষ্টি, সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক শাহরিয়ার সাদাত, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ এবং নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন।

সম্মানিত অতিথিদের বক্তব্য পর্বে দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ পর্বে বিডিএসআরএম-ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি গগন লাল এবং দলিত নারী ফোরামের সভাপতি দীপ্তি রাজবংশী বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের মুক্ত আলোচনা পর্বে নারী ও শিশু অধিকার, দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক অবস্থান এবং তাঁদের উন্নয়নে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এতে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, এসএডিবি, জয়িতা প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থা এবং আর্টিক মিটিক সোসাইটির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাহবুবা হাবিবা, এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তিনি দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মেহনা গুহঠাকুরতা, চেয়ারম্যান, নাগরিক উদ্যোগ। দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাগরিক উদ্যোগের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাদিরা পারভীন।

আয়োজকদের কর্মসূচি অনুযায়ী, সম্মেলনের মাধ্যমে দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজেরও ব্যবস্থা রাখা হয়।

Facebook Comments Box